প্রফেসর ড. জে আলী'র মতে,
এই ৫টা বিষয় মনে রাখা উচিত
সেলস মানে শুধু জিনিস বিক্রি নয়
সব মানুষই প্রতিদিন কিছু না কিছু সেল করে। যেমন একটা শিশু তার হাসি সেল করে, একজন মা তার আদর সেল করেন, আর একজন শিক্ষক সেল করেন তার জ্ঞান ও ভালোবাসা।
মানুষ সৃষ্টির আগেও সেলস ছিল
পৃথিবীতে মানুষ সৃষ্টির আগেও সেলস ছিল। যেমন, শয়তান যখন বেহেশতে গন্ধম ফল খাওয়ার জন্য মা হাওয়াকে কনভিন্স করেছিল, সেটাও একটা সেলস ছিল।
কাস্টমাররা সমস্যার সমাধান কেনে
মানুষ আসলে কোনো প্রোডাক্ট বা সেবা কেনে না, তারা তাদের সমস্যার সমাধান কেনে। তাই কিছু বিক্রি করার আগে কাস্টমারের আসল প্রয়োজনটা বোঝা খুব জরুরি।
মানুষ ভালো অনুভূতি কেনে
কাস্টমার শুধু জিনিস কেনে না, তারা একটা ভালো অনুভূতি বা ফিলিংস কেনে। আপনার প্রোডাক্ট তাদের সেই ভালো অনুভূতি দিতে পারছে কিনা তা দেখা উচিত।
সবার আগে প্রয়োজন বিশ্বাস
প্রোডাক্টের আগে কাস্টমার আপনার প্রতি বিশ্বাস কেনে। তাই কাস্টমারকে শুধু প্রোডাক্টের কথা না বলে তার সাথে ট্রাস্ট বা বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি করা সবচেয়ে বেশি দরকার।
আর্ট পাগল শিল্পপতি এবং একজন চালাক সেলসম্যানের গল্প
একজন বিশাল বড় শিল্পপতি ছিলেন, যিনি অনেক বড় বড় অর্ডার দিতেন। তিনি ছিলেন একটু খেয়ালি এবং শিল্পমনা মানুষ, যিনি আর্ট খুব ভালোবাসতেন।
একটা কোম্পানি থেকে সেলসম্যানরা দিনের পর দিন তার কাছে যেত, কিন্তু কেউ কোনো সেলসের অর্ডার নিতে পারত না। সবাই হতাশ হয়ে ফিরে আসতো।
একদিন একজন নতুন সেলসম্যান বলল, সে একটু স্যারের কাছে যাবে। সে ওই শিল্পপতির বাসায় গিয়ে অন্যদের মতো কোনো কথা বলা শুরু করল না, বরং চুপচাপ দাঁড়িয়ে শুধু তার আর্ট দেখতে লাগল।
সে সারাদিন ছবিগুলো দেখে আর হাসে।
সন্ধ্যাবেলায় ওই ভদ্রলোক অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “বাবা, তুমি কী করছো?”
ছেলেটা তখন খুব মুগ্ধ হয়ে বলল, “এত সুন্দর আর্ট! আমি তো অবাক!” সে জানাল যে সে চিন্তাও করতে পারেনি তাদের শহরে এত সুন্দর একজন আর্টিস্ট আছেন, যিনি এত নিরলসভাবে আর্ট করে যাচ্ছেন।
সে আরও জানতে চাইল, “স্যার, আপনি জল রংটা ভালো করেছেন, কিন্তু এখানে এই টানটা এরকম কেন হলো, একটু আমাকে বলবেন?”
নিজের কাজের এমন প্রশংসা শুনে শিল্পপতি একদম অভিভূত ও মুগ্ধ হয়ে গেলেন! তিনি খুব খুশি হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “বাবা তুমি কী করো?”
ছেলেটা খুব বিনয়ের সাথে বলল, “স্যার, আমি ছোটখাটো কাজ করছি, এটা মুখ্য না, আমি তো আপনার আর্ট দেখছি!”
পরে সে জানাল যে সে একটি লাইটিং ফিটিংস কোম্পানিতে কাজ করে।
তখন শিল্পপতি বললেন যে ওই কোম্পানি থেকে আগেও লোক এসেছিল, কিন্তু তিনি তখন খুব ব্যস্ত ছিলেন। তিনি ছেলেটিকে বসতে বললেন এবং একসাথে খাওয়ার কথা বললেন।
আর সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হলো, খুব খুশি হয়ে তিনি ওই সেলসম্যানকে দশ কোটি টাকার বিশাল এক অর্ডার দিয়ে দিলেন!
আসলে সেলসম্যানটি খুব বুদ্ধিমান ছিল, সে সারাদিন শুধু অপেক্ষা করেছে এবং কাস্টমারকে পর্যবেক্ষণ করে তার দুর্বলতার জায়গাটা বোঝার চেষ্টা করেছে।
সে বুঝতে পেরেছিল যে কাস্টমারের দুর্বলতা হলো তার আর্ট, আর ঠিক সেই জায়গাতেই সে কাজ করেছে!
কাস্টমার কেনাকাটার অবাক করা দুনিয়া
আপনি কি জানেন, দোকান বা অনলাইনে কেনা একটা জিনিস আপনি আসলে কেন কেনেন?
এটা “সেলস সাইকোলজি” নামের বিশাল একটা মনস্তত্ত্বের মাধ্যমে হয়।
সেলস মানে শুধু কোনো জিনিস বিক্রি করা বা টাকা নেওয়া নয়। এটা অনেক বড় একটা কাজ, যেখানে মানুষের সমস্যা বোঝা, বিশ্বাস তৈরি করা এবং সমাধান দেওয়ার মতো অনেকগুলো ধাপ থাকে।
জে আলী স্যার বলেছিলেন, বাংলাদেশে প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষ সেলস পেশায় কাজ করেন!
অবাক করা ব্যাপার হলো, পৃথিবীতে মানুষ সৃষ্টির আগেও এই সেলস ছিল! বেহেশতে যখন শয়তান মা হাওয়াকে গন্ধম ফল খাওয়ার জন্য রাজি করিয়েছিল, সেখান থেকেই এর শুরু হয়েছিল। আর এখন, পৃথিবীতে সব মানুষই প্রতিদিন সবকিছুই সেল করছে।
জে আলী স্যার বলেছিলেন, কাস্টমাররা আসলে কখনোই সরাসরি পণ্য বা সেবা কেনে না। তারা মূলত তাদের সমস্যার সমাধান কেনে। যখন তারা কোনো জিনিস কেনে, তারা আসলে একটা ভালো অনুভূতি বা ফিলিংস কেনে। সাথে সাথেই তারা আপনার প্রতি বিশ্বাস তৈরি করে, আর একজন সফল সেলসম্যানও তা খুব ভালোভাবে বুঝতে পারেন!
এই সফল সেলসম্যানদের খুব সুন্দর একটা মনস্তত্ত্ব বা সিস্টেম থাকে, যেখানে তারা কাস্টমারের আসল প্রয়োজনটা দ্রুত বুঝতে সাহায্য করেন যাতে কাস্টমার হতাশ না হন। তারা প্রতিটি কাস্টমারকে খুব যত্ন করে আগলে রাখেন, যাতে তাদের বিশ্বাস ভেঙে না যায়।
তবে কিছু জায়গায়, আমাদের দেশি অনেক সেলসম্যানের চিন্তাভাবনা এখনো এতোটা উন্নত নয়। অনেক সময় তারা কাস্টমারের কাছে যান, কিন্তু তাদের আসল সমস্যার সমাধান দেওয়ার জন্য তাদের কাছে ভালো কোনো ধারণা থাকে না। কখনো কখনো তারা শুধু নিজেদের প্রোডাক্ট বিক্রি করার জন্যই কাস্টমারকে বিরক্ত করেন!
এছাড়া, বড় বড় সফল মানুষদের মতো লোকাল অনেক মানুষের কাছে কাস্টমারের বিশ্বাস অর্জন করার সঠিক উপায় থাকে না।
কিন্তু দিন দিন সব কিছুর উন্নতি হচ্ছে! বড় বড় সফল মানুষদের দেখে আমাদের দেশের তরুণরাও ধীরে ধীরে কাস্টমারের মনস্তত্ত্ব বুঝতে শিখছে, যাতে তারা কাস্টমারকে সঠিক সমাধান দিয়ে তাড়াতাড়ি তাদের বিশ্বাস অর্জন করতে পারে।
