নিয়াজ আহমেদের মতে,
এই ৫টা বিষয় মনে রাখা উচিত
সিভি, রেজ্যুমে আর কভার লেটারের এক নয়
সিভি সবসময় অ্যাকাডেমিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়! রেজ্যুমে চাকরির উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়। আর কভার লেটার হচ্ছে সেই চিঠি, যেখানে আপনি ব্যাখ্যা করেন - কেন আপনি একটি নির্দিষ্ট পদের জন্য উপযুক্ত। বাংলাদেশের অনেক প্রফেশনাল এবং রিক্রুটারও এই তিনটার মধ্যে পার্থক্য জানেন না।
প্রেজেন্টেশন স্কিলই সবচেয়ে আন্ডাররেটেড স্কিল
নিজেকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে না পারার কারণে একজন প্রফেশনালের বছরে প্রায় ১ লাখ টাকা এবং সারা জীবনে প্রায় ১ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়। আপনার যোগ্যতা যতই থাকুক না কেন, সেটা সঠিকভাবে ফুটিয়ে তুলতে না পারলে আপনি সুযোগ হারাবেন।
রিক্রুটাররা যোগ্যতার চেয়ে রিলেভেন্স খোঁজে
যখন কোনো কোম্পানিতে একজন লোক দরকার হয়, রিক্রুটাররা খোঁজে এমন কাউকে, যার আগের কাজের অভিজ্ঞতার সাথে বর্তমান পদের সম্পর্ক আছে। আপনার ডকুমেন্টে যত বেশি মিল পাবে, ততই আপনি ইন্টারভিউ কল পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াবেন।
ইন্টার্নশিপ দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু হয়
প্রথম চাকরি পেতে অনেকেই নন-পেইড ইন্টার্নশিপ দিয়ে শুরু করেন। ৩-৪ মাস বিনা বেতনে কাজ করে পুরো ইকোসিস্টেম বুঝতে পারেন! এই অভিজ্ঞতা আপনার রেজ্যুমেতে যোগ হওয়ার পর আপনার বাজারমূল্য বেড়ে যায়।
কনসিস্টেন্সি, সাফল্যের চাবিকাঠি
শুধু সিভি দিয়েই চাকরি হয় না। আপনার অনেকগুলো টাচ পয়েন্ট ছুঁতে হবে — লিংকডইন প্রোফাইল, ইন্টারভিউতে উপস্থাপন, পোশাক, সময়ানুবর্তিতা, আগের কাজের রেফারেন্স; প্রতিটা জায়গায় আপনাকে কনসিস্টেন্ট থাকতে হবে।
পানির ফোঁটার মতো কনসিস্টেন্সি — সাফল্যের আসল চাবিকাঠি
আগেকার দিনে মানুষকে মেরে ফেলার জন্য এক ধরনের টর্চার পদ্ধতি ব্যবহৃত হতো। শিকারকে হাত-পা বেঁধে বসিয়ে রাখা হতো। তাকে তিনবেলা খুব ভালো করে খাওয়ানো হতো। সবকিছু ঠিক থাকতো; শুধু তার মাথার উপরে প্রতি মিনিটে এক ফোঁটা করে পানি পড়তো। কয়েকদিনের মধ্যেই সে মারা যেত।
এক ফোঁটা পানি!
যত ক্ষুদ্রই হোক না কেন, একটানা পড়তে থাকলে সেটা সবচেয়ে বড় শক্তিকেও পরাস্ত করতে পারে।
ঠিক একইভাবে, ক্যারিয়ারে সাফল্যের জন্যও কনসিসটেন্ট থাকা প্রয়োজন।
আমাদের সমাজে অনেক মানুষ আছেন যারা শুরু করেন, কিন্তু কনসিসটেন্ট থাকতে পারেন না। কিছুদিন পরেই তারা পথ পরিবর্তন করে ফেলেন। নিয়াজ আহমেদ বলছিলেন, ক্যারিয়ারের যে পথই বেছে নিন না কেন – সেটাতে লেগে থাকতে হবে। কনসিস্টেন্ট থাকতে হবে। আর যদি ১০ বছর পর্যন্ত একটি জিনিস নিয়ে কাজ করতে থাকেন, তাহলে আপনি সেই মার্কেটের এক নম্বর হয়ে যাবেন।
সিভি, রেজ্যুমে ও ক্যারিয়ারের বাস্তব দুনিয়া
বাংলাদেশে প্রতি মাসে হাজার হাজার মানুষ চাকরির জন্য আবেদন করেন, কিন্তু মাত্র কয়েকজনই ইন্টারভিউ কল পান?
এর সবচেয়ে বড় কারণ – তাদের সিভি বা রেজ্যুমে ঠিকমতো তৈরি না হওয়া।
সিভি এবং রেজ্যুমে; এই দুটি শব্দ আমরা প্রায়ই একই অর্থে ব্যবহার করি, কিন্তু এদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য আছে।
সিভি (Curriculum Vitae) হচ্ছে একটি ডিটেইলড অ্যাকাডেমিক ডকুমেন্ট, যা মূলত বিশ্ববিদ্যালয়, মাস্টার্স বা পিএইচডিতে আবেদনের জন্য ব্যবহার করা হয়। এখানে আপনার অ্যাকাডেমিক রেজাল্ট, প্রজেক্ট, থিসিস, জার্নাল পাবলিকেশন, পোস্টার প্রেজেন্টেশন ইত্যাদি থাকে। সিভির সাথে একটি সাপোর্টিং ডকুমেন্ট জমা দিতে হয় যাকে বলে স্টেটমেন্ট অফ পারপাস বা SOP।
অন্যদিকে, রেজ্যুমে হচ্ছে চাকরির জন্য তৈরি করা ডকুমেন্ট। এখানে আপনার ওয়ার্কিং এক্সপেরিয়েন্স, স্কিল এবং অ্যাচিভমেন্টগুলো প্রেজেন্ট করতে হয়। আর কভার লেটার হচ্ছে সেই চিঠি, যেখানে আপনি ব্যাখ্যা করেন কেন আপনি একটি নির্দিষ্ট পদের জন্য উপযুক্ত এবং কেন কোম্পানির আপনাকে ইন্টারভিউতে ডাকা উচিত।
নিয়াজ আহমেদ জানান, বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরণের সিভি নিয়ে তারা কাজ করেন: উচ্চশিক্ষার জন্য সিভি, জব মার্কেটের জন্য রেজ্যুমে, ব্যবসার জন্য প্রোফাইল বা পোর্টফোলিও, বায়োডাটা বা ম্যারেজ সিভি, ইউরোপিয়ান সিভি, কানাডিয়ান সিভি – প্রতিটির ফরম্যাট এবং কন্টেন্ট আলাদা।
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, নিয়াজ আহমেদের টিম “মরা মানুষেরও সিভি” লিখেছে!
যেমন – অনৈতিকভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা নেওয়ার জন্য কেউ যদি তার মৃত বাবার পোর্টফোলিও বানায় সরকারি বেনিফিট পাওয়ার জন্য, সেটাও তারা করেন!
প্রফেশনাল সিভি রাইটিং একটা সফিস্টিকেটেড কাজ। প্রত্যেক পেশাজীবীর সাথে বসে বসে দীর্ঘ আলাপ করে, তাদের পুরো গল্প শুনে, তারপর তাদের জন্য আলাদা করে সিভি তৈরি করা হয়। একজন সেলস ম্যানেজারের সাথে যেমনভাবে কথা বলতে হয়, একজন মার্চেন্ডাইজারের সাথে আরেকভাবে। এই অভিজ্ঞতা বছরের পর বছর ধরে অর্জন করতে হয়।
