বাংলাদেশে, বিজনেস ডেভঅপস, বিজনেস গ্রোথ এবং বিজনেস আইডিয়া থেকে বিজনেস ডিজাইন ও GTM স্ট্র্যাটেজি
দ্বীপ দের মতে,
এই ৫টা কথা মাথায় রাখতেই হবে:
আইডিয়া নয়, ভ্যালিডেশনই আসল
বেশিরভাগ মানুষ একটা চমৎকার আইডিয়া নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে চায়, কিন্তু দ্বীপের মতে ব্যবসার শুরুটা হওয়া উচিত ভ্যালিডেশন দিয়ে। আপনার আইডিয়াটা কি আসলেই মার্কেটের সমস্যা সমাধান করছে, নাকি সেটা শুধু আপনার স্বপ্ন, সেটা রিসার্চ প্রসিডিউরের মাধ্যমে যাচাই করে নেওয়াই হলো প্রথম ধাপ।
ফাউন্ডারের বায়াসনেস ভার্সেস সিস্টেম
ব্যবসা যখন বড় হতে শুরু করে, তখন প্রায়ই দেখা যায় ফাউন্ডারের নিজস্ব পছন্দ-অপছন্দ বা 'বায়াসনেস' বিজনেসের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়। ব্যবসা তখনই স্কেল করে যখন সেটা ফাউন্ডারের মর্জির বদলে একটি নির্দিষ্ট সিস্টেম বা অপারেশনের ওপর ভিত্তি করে চলতে পারে।
ম্যানুয়াল প্রসেস হলো ফাউন্ডেশন
অটোমেশন বা এআই ব্যবহারের আগে আপনাকে ব্যবসার প্রতিটি ধাপ ম্যানুয়ালি করতে জানতে হবে। ম্যানুয়াল প্রসেস না বুঝলে আপনি কখনোই বুঝতে পারবেন না আপনার সিস্টেমের কোথায় ভুল হচ্ছে বা কোথায় ইমপ্রুভমেন্ট দরকার।
ক্যাশ-কাউ প্রোডাক্ট চিনে আলাদা করা
প্রতিটি ব্যবসার এমন কিছু প্রোডাক্ট বা সার্ভিস থাকে যা নিয়মিত রেভিনিউ নিশ্চিত করে — এগুলোকে বলা হয় 'ক্যাশ-কাউ'। গ্রোথ স্টেজে গিয়ে এই সফল প্রোডাক্টগুলোকে আলাদা করে সেগুলোর ওপর ফোকাস করা এবং সেগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া জরুরি, যাতে মূল ইনকাম সোর্সটি সবসময় সচল থাকে।
বিজনেসের রিয়েল গ্রোথ ভার্সেস ফ্যান্টাসি
সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখানো 'ওভারনাইট সাকসেস' বা ফ্যান্টাসি গ্রোথের পেছনে না ছুটে রিয়েল মার্কেটের ডেটা বুঝুন। গ্রোথ মানে শুধু সেলস বাড়ানো নয়, বরং প্রফিটবিলিটি এবং ক্যাশ ফ্লো ঠিক রেখে বিজনেস ডেভেলপমেন্ট পাইপলাইনকে টেকসই করাই হলো প্রকৃত সফলতা।
নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সফল বিজনেস রোডম্যাপ
শুরুটা হবে বিজনেস আইডিয়া ভ্যালিডেশন দিয়ে, শুধু একটা ‘চমৎকার আইডিয়া’ দিয়ে নয়।
নিজেকে দুটো প্রশ্ন করুনঃ (১) আমার এই আইডিয়া কি বাজারের কোনো বাস্তব সমস্যার সমাধান করছে? এবং (২) এই সমাধানের জন্য কি মানুষ আসলেই টাকা খরচ করতে রাজি?
দুটোর উত্তর ‘হ্যাঁ’ হলে — এটাই আপনার ব্যবসা শুরুর পথ!
অটোমেশন বা এআই-এর পেছনে ছোটার আগে ম্যানুয়াল প্রসেসে দক্ষ হোন। একটা কাজ নিজের হাতে অন্তত ১০ বার করুন। যতক্ষণ না আপনি নিজে প্রসেসটা বুঝতে পারছেন, ততক্ষণ সেটা অন্য কাউকে দিয়ে করানোর বা সফটওয়্যার দিয়ে অটোমেট করার চেষ্টা করবেন না।
ম্যানুয়াল দক্ষতা থাকলে পরে সিস্টেমের ভুল ধরা আপনার জন্য সহজ হবে।
ব্যবসার শুরুতে পারফেক্ট অফিস বা দামী লোগো জরুরি নয়, জরুরি হলো একটা ‘ক্যাশ-কাউ’ প্রোডাক্ট বা সার্ভিস। এমন একটা ‘জিনিস’ আইডেন্টিফাই করুন যেটা আপনার নিয়মিত রেভিনিউ বা ক্যাশ-ফ্লো নিশ্চিত করবে। সেই টাকা দিয়েই পরে বাকি সব বড় করা যাবে।
প্রথম ৯০ দিনে অপারেশনাল সিস্টেম বা এসওপি (SOP) দাঁড় করান। ব্যবসার প্রতিটি ধাপ কীভাবে সম্পন্ন হবে তার একটা লিখিত গাইডলাইন তৈরি করুন। ব্যবসা যখন ফাউন্ডারের মর্জির বদলে, সিস্টেমের ওপর ভিত্তি করে চলবে, তখনই সেটা স্কেল করা সম্ভব হবে।
ফাউন্ডার হিসেবে নিজের বায়াসনেস বা ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ থেকে বের হয়ে ডাটা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে শিখুন।
হায়ার করার আগে কাজের ধরন বুঝে নিন। শুধু নিজের কাজের চাপ কমানোর জন্য মানুষ না নিয়ে, আপনার সিস্টেমকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য দক্ষ মানুষ খুঁজুন। যাকে টিমে নিচ্ছেন তাকে পরিষ্কারভাবে জানান তার দায়িত্ব কী এবং আপনার এক্সপেক্টেশন কী।
কমিউনিকেশন যত স্বচ্ছ হবে, ডেলিভারি বা কোয়ালিটি নিয়ে ঝামেলা তত কম হবে।
সোশ্যাল মিডিয়ার “ওভারনাইট সাকসেস” বা রাতারাতি বড় হওয়ার গল্প দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। রিয়েল মার্কেটে টিকে থাকতে হলে প্রতিদিনের ছোট ছোট ডাটা ও নম্বরগুলো ট্র্যাক করুন। ক্যাশ-ফ্লো ঠিক আছে কি না, অপারেশনাল কস্ট কত—এই রিয়েলিটি চেক ছাড়া লং-টার্মে টিকে থাকা সম্ভব না।
সততা আর সিস্টেমই আপনার ব্যবসাকে দীর্ঘস্থায়ী করবে।
যে ভুলটা বাংলাদেশের নতুন উদ্যোক্তারা বারবার করে থাকেন
দ্বীপ, নিজের অভিজ্ঞতায় দেখা অসংখ্য স্টার্টআপের বাস্তব পরিস্থিতির কথা শেয়ার করলেন।
বাংলাদেশে এমন অনেক উদ্যোক্তা আছেন যারা বছরের পর বছর শুধু একটা ‘চমৎকার আইডিয়া’ নিয়েই বসে থাকেন। একটা লোগো বানানো, অফিস নেওয়া বা ওয়েবসাইট সাজাতেই তারা মাসের পর মাস পার করে দেন। কিন্তু আসল যে কাজ অর্থাৎ আইডিয়াটা মার্কেটে ভ্যালিডেট করা বা প্রসেস সেট করা — সেখানেই তাদের যত অনীহা!
এক মাস খুব ‘জোশ’ নিয়ে কাজ করেন, পরের মাসে যখন সেলস কমে যায় বা অপারেশনাল ঝামেলা বাড়ে, তখন সব ছেড়ে দিয়ে আবার নতুন কোনো আইডিয়ার পেছনে ছোটেন।
বছরের পর বছর এই চক্র চলতেই থাকে। আইডিয়া চেঞ্জ হয়, ব্যবসার নাম বদলায়, কিন্তু কখনো সেই ব্যবসা একটা সলিড অর্গানাইজেশন হিসেবে দাঁড়ায় না। কাজ হয় প্রচুর, কিন্তু ‘বিজনেস’ হয় না।
কিন্তু প্রশ্নটা হচ্ছে — আইডিয়া ভালো হওয়া সত্ত্বেও, এই মানুষগুলো এতদিনেও কেন সফল হতে পারলো না?
সমস্যাটা মেধাতে নয়; ভুলটা প্রসেস এবং ফাউন্ডার বায়াসনেসে।
কেউ তাকে শেখায়নি যে শুধু আইডিয়া দিয়ে ব্যবসা হয় না, আইডিয়াকে ভ্যালিডেশনের প্রসিডিউরের মধ্য দিয়ে নিয়ে যেতে হয়। কেউ বলেনি যে ম্যানুয়াল প্রসেস না বুঝে অটোমেশনের পেছনে ছুটলে সিস্টেম নড়বড়ে হবেই! কেউ দেখায়নি যে একজন ফাউন্ডারের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ কীভাবে একটা সম্ভাবনাময় ব্যবসার গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ফলে একজন উদ্যোক্তার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান ২-৩টা বছর চলে গেছে কেবল ‘ট্রায়াল এন্ড এরর’ এর মধ্যে দিয়ে; অথচ সেই একই সময়ে সে একটা প্রপার এসওপি (SOP) এবং ডেটা-ড্রিভেন সিস্টেম দাঁড় করিয়ে নিজের ব্যবসাকে স্কেলেবল করে তুলতে পারতো।
বাংলাদেশে, বিজনেস ডেভঅপস
He has served 50+ startup and SME companies across various sectors, shaped the business foundations for dozens of organizations, and designed end-to-end systems from validation to growth.
Meet Your Hosts
Muntasir Mahdi is an author and an educator. He writes about clear thinking, designing better learning systems and building digital assets. Over the years, he wrote 10+ books, taught thousands of students, and built his learning institution: Learn with Muntasir.
Most of his work explores how we learn, how we think and how we build in the digital age. He cares about building thinking and learning systems that last.
Abdullah Al Mamun is a performance marketer, systems thinker and the founder of Mazency, a LinkedIn marketing agency. He works at the intersection of strategy, data and execution. He is also the #1 bestselling author of “লিংকডইনে ক্যারিয়ার”, a book written to help students and professionals build real, long-term careers using LinkedIn; without fake promises or viral tricks.
Over the years, He has worked with 23+ brands across multiple industries and mentored 5,000+ students in digital marketing and LinkedIn growth.
