ফার্নিচার ইন্ডাস্ট্রি, উড অ্যান্ড মেটাল টেকনোলজি এবং বাংলাদেশে কনসালটেন্সি ও মাইন্ডসেট

নইমুল স্যারের মতে,

এই ৫টা কথা মাথায় রাখতেই হবে:

পণ্য নয়, টেকনোলজিই মুখ্য

অনেকে মনে করেন পণ্য কী দিয়ে তৈরি সেটাই সব, কিন্তু নৈমুল হোসেনের মতে আসল গুরুত্ব দেওয়া উচিত টেকনোলজিতে । উড বা মেটাল দিয়ে যে পণ্যটি তৈরি হচ্ছে, তা কোন প্রসেস বা মেশিনারিজের মাধ্যমে নিখুঁত করা হচ্ছে সেটাই ইন্ডাস্ট্রিয়াল সাকসেসের চাবিকাঠি!

সামাজিক পারসেপশন পরিবর্তন

আমাদের দেশে এই সেক্টরকে কেবল ছোট ওয়ার্কশপ বা নিচু স্তরের কাজ ভাবা হয় । কিন্তু একে একটি স্মার্ট ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে এই নেতিবাচক সোশ্যাল পারসেপশন কাটিয়ে বড় পরিসরে এবং আধুনিক ফ্যাক্টরি হিসেবে চিন্তা করার সাহস রাখতে হবে!

গ্লোবাল নলেজ বনাম লোকাল সিস্টেম

ইতালি বা জার্মানির সিস্টেম সরাসরি বাংলাদেশে অ্যাপ্লাই করলে সফল হওয়া কঠিন । বিদেশের টেকনিক্যাল নলেজ ব্যবহার করে স্থানীয় পরিবেশ ও সীমাবদ্ধতা অনুযায়ী নিজস্ব একটি সিস্টেম তৈরি করা এবং সেই অনুযায়ী অপারেশন চালানো জরুরি!

দক্ষ জনবলের অভাব পূরণ

বর্তমানে ফার্নিচার ইন্ডাস্ট্রির প্রত্যাশিত উন্নতি না হওয়ার অন্যতম বড় কারণ হলো স্কিলড লেবারের অভাব। ব্যবসা বড় করতে হলে শুধু রিসোর্স থাকলে হবে না, বরং সেই রিসোর্স ব্যবহারের জন্য দক্ষ মানুষ তৈরি করা এবং সিস্টেমের মাধ্যমে তাদের অ্যালাইন করা প্রধান কাজ।

প্রফেশনাল কনসালটেন্সির ভূমিকা

বাংলাদেশে ইন্ডাস্ট্রিয়াল কনসালটেন্টদের গুরুত্ব কম দেওয়া হলেও, একটি অগোছালো ব্যবসাকে স্ট্রাকচারড রূপ দিতে তাদের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। সঠিক গাইডলাইন ও প্রফেশনাল পরামর্শ ছাড়া ইন্ডাস্ট্রির প্রকৃত গ্রোথ বা স্কেলিং সম্ভব নয়!

ইন্ডাস্ট্রিয়াল উদ্যোক্তাদের জন্য প্রোডাকশন রোডম্যাপ

পণ্যের চেয়ে টেকনোলজিকে অগ্রাধিকার দিন!

ব্যবসা শুরুর আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন — আপনি কি কেবল একটি পণ্য (যেমন ফার্নিচার) বিক্রি করছেন, নাকি আপনি একটি বিশেষ টেকনোলজি নিয়ে কাজ করছেন?

নইমুল হোসেনের মতে, ম্যাটেরিয়াল (কাঠ বা লোহা) সবাই চেনে, কিন্তু সেটি প্রসেস করার সঠিক ‘টেকনোলজি’ জানাটাই আসল ব্যবসা। আপনার শক্তির জায়গা হতে হবে আধুনিক মেশিনারিজ এবং টেকনিক্যাল নলেজ।

নিজে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সময় নষ্ট করার আগে উন্নত বিশ্বের (যেমন জার্মানি বা ইতালি) টেকনিক্যাল ড্রয়িং এবং ক্যাটালগগুলো স্টাডি করুন। ব্যবসা শুরুর ধাপেই আপনার প্রোডাকশন লাইনের প্রতিটি কাজের জন্য একটি করে স্ট্যান্ডার্ড গাইডলাইন বা ম্যানুয়াল তৈরি রাখুন। যখন কাজগুলো কোনো ব্যক্তির অভিজ্ঞতার বদলে টেকনিক্যাল পেপার বা ড্রয়িং অনুযায়ী হবে, তখন পণ্যের মান সবসময় একই থাকবে।

বাংলাদেশে এই সেক্টরে দক্ষ জনবলের অভাব একটি বড় চ্যালেঞ্জ। শ্রমিকরা অনেক সময় তাদের পুরনো অভ্যাসের বাইরে কাজ করতে চায় না। তাই শুরু থেকেই এমন একটি সিস্টেম তৈরি করুন যেখানে শ্রমিকের মর্জির চেয়ে মেশিনের প্যারামিটার এবং টেকনিক্যাল এসওপি (SOP) বেশি গুরুত্ব পাবে।

কর্মীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিন যাতে তারা শুধু ‘কাজ’ নয়, বরং ‘টেকনোলজি’ বুঝতে পারে।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রডাকশনে প্রফিট বাড়ানোর মূল মন্ত্র হলো অপচয় রোধ করা।

সঠিক কাটিং লিস্ট এবং আধুনিক টুলস ব্যবহারের মাধ্যমে কাঁচামালের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করুন। ম্যানুয়াল প্রসেসে যে ভুলগুলো হয়, সেগুলো দূর করতে ছোট ছোট টেকনিক্যাল ইমপ্রুভমেন্টের ওপর ফোকাস করুন।

ফিনিশিং যত নিখুঁত হবে, আপনার ব্র্যান্ড ভ্যালু তত বাড়বে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ইন্ডাস্ট্রিয়াল কনসালটেন্টদের গুরুত্ব অপরিসীম। একটি ফ্যাক্টরির লে-আউট সেট করা থেকে শুরু করে প্রোডাকশন লাইন অপ্টিমাইজ করা পর্যন্ত অভিজ্ঞ কারো পরামর্শ নিন। এটি আপনার শুরুর দিকের অনেক বড় বড় লোকসান কমিয়ে দেবে এবং ব্যবসাকে দ্রুত স্কেল করতে সাহায্য করবে।

ফার্নিচার সেক্টরকে কেবল একটি ‘ওয়ার্কশপ’ হিসেবে না দেখে একটি আধুনিক ‘ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট’ হিসেবে গড়ে তোলার মানসিকতা রাখুন।

মানুষের নেতিবাচক ধারণা বা ‘সোশ্যাল পারসেপশন’ দেখে থেমে যাবেন না। সততা এবং সিস্টেমের সমন্বয় থাকলে বাংলাদেশের এই বিশাল অগোছালো মার্কেটেই আপনি সবচেয়ে বড় সুযোগ খুঁজে পাবেন।

যে ভুলটা বাংলাদেশের ইন্ডাস্ট্রিয়াল উদ্যোক্তারা করে থাকেন

নইমুল হোসেন, নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে দেখা এই সেক্টরের অসংখ্য উদ্যোক্তার একটি সাধারণ সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন।

বাংলাদেশে এমন অনেক উদ্যোক্তা আছেন যারা বড় বিনিয়োগ করে ফ্যাক্টরি দেন, দামী ‘৫-এক্সিস’ বা অত্যাধুনিক মেশিন কেনেন, কিন্তু সেই মেশিনটি যে টেকনোলজি বা প্রসেসে চলবে — সেটি নিয়ে তাদের বিন্দুমাত্র পড়াশোনা থাকে না।

তাদের কাছে ব্যবসা মানেই হলো একটি জায়গা ভাড়া নেওয়া আর কিছু শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া।

কিন্তু আসল কাজ যেখানে — অর্থাৎ গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ডের টেকনিক্যাল ক্যাটালগ অনুসরণ করা বা নিখুঁত ড্রয়িং অনুযায়ী প্রডাকশন লাইন সেট করা — সেখানেই তাদের যত অবহেলা!

উদ্যোক্তারা বড় ফ্যাক্টরির স্বপ্ন দেখেন, কিন্তু তাদের পুরো প্রোডাকশন সিস্টেমটি চলে একজন ‘মিস্ত্রি’ বা শ্রমিকের ব্যক্তিগত মর্জির ওপর। মেশিনের যে একটি নিজস্ব ল্যাঙ্গুয়েজ বা প্যারামিটার আছে, সেটিতে তারা গুরুত্ব দেন না। ফলে দেখা যায়, লাখ লাখ টাকার মেশিন থাকা সত্ত্বেও ফিনিশিং ভালো আসছে না বা ওয়েস্টেজ (অপচয়) অনেক বেশি হচ্ছে।

তারা ভাবেন দামী কাঁচামাল ব্যবহার করলেই ভালো পণ্য হবে, অথচ আধুনিক টেকনোলজি আর প্রসেস ছাড়া যে কোয়ালিটি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, এই বাস্তবতা নিয়ে তারা ভাবেন না।

এত বিনিয়োগ আর পরিশ্রমের পরেও ফার্নিচার ইন্ডাস্ট্রি কেন ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে দাঁড়াতে পারে না?

সমস্যাটি মূলত ‘সোশ্যাল পারসেপশন’ বা সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে। আমাদের দেশে উড বা মেটাল সেক্টরকে এখনো শুধু ‘ছুতারের কাজ’ বা ‘কামারের কাজ’ হিসেবে দেখা হয়।

কেউ তাদের শেখায়নি যে এটি আসলে একটি গভীর ইঞ্জিনিয়ারিং এবং টেকনোলজি। কোনো ইন্ডাস্ট্রিয়াল কনসালটেন্ট বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ না নিয়েই তারা সব একা করতে গিয়ে বছরের পর বছর ট্রায়াল এন্ড এরর-এর চক্রে আটকে থাকেন।

ফলাফল হিসেবে দেখা যায়, কয়েক বছর পর যখন বড় লোকসান হয় বা পণ্যের মান খারাপ হতে থাকে, তখন তারা হাল ছেড়ে দেন। অথচ শুরু থেকেই যদি তারা টেকনিক্যাল নলেজ এবং একটি সুশৃঙ্খল সিস্টেম বা এসওপি (SOP) দাঁড় করাতেন, তবে তাদের এই ছোট ওয়ার্কশপটিই একটি স্কেলেবল এবং আন্তর্জাতিক মানের ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট হয়ে উঠতে পারতো।

টেকনিক্যাল নলেজ আর সঠিক প্রসেসের অভাবই এখানে একজন সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তার সফলতার পথে প্রধান বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়।

"পার্সিভনেসটা আসলে ভালো না কারণ আমাদের দেশে উড এবং মেটাল ওয়ার্কিং নিয়ে যখন কেউ চিন্তা করে কোশ্চেন করে, তখন একটা নেতিবাচক ধারণা মাথায় আসে!"

বাংলাদেশে, ফার্নিচার ইন্ডাস্ট্রি

CEO, Wood Tech Solution & Metal Tech Solution

He has accumulated over 20+ years of industrial experience, worked at Robert Bosch GmbH, one of the world’s largest and most respected German engineering companies, earned 14 crore+ BDT while optimizing systems for global furniture giants, and shaped the technical foundations for dozens of manufacturing plants through world-class engineering standards and disciplined process design.

Meet Your Hosts

Muntasir Mahdi

Muntasir Mahdi is an author and an educator. He writes about clear thinking, designing better learning systems and building digital assets. Over the years, he wrote 10+ books, taught thousands of students, and built his learning institution: Learn with Muntasir.

Most of his work explores how we learn, how we think and how we build in the digital age. He cares about building thinking and learning systems that last.

Abdullah Mamun

Abdullah Al Mamun is a performance marketer, systems thinker and the founder of Mazency, a LinkedIn marketing agency. He works at the intersection of strategy, data and execution. He is also the #1 bestselling author of “লিংকডইনে ক্যারিয়ার”, a book written to help students and professionals build real, long-term careers using LinkedIn; without fake promises or viral tricks.

Over the years, He has worked with 23+ brands across multiple industries and mentored 5,000+ students in digital marketing and LinkedIn growth.

Abdullah Mamun

Mamun's Signature
Scroll to Top